সংবাদ শিরোনাম
Home / খোলামত / করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প অন্য কোন হাতিয়ার নেইঃ নাজিম

করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প অন্য কোন হাতিয়ার নেইঃ নাজিম

করোনা ভাইরাস সচেতনতা- বিশ্ব মহামারী ঘোষণায় যখন আজ করোনা তথা কোভিড-১৯ সংক্রমণের অবস্থান, যেখানে হার মানছে পৃথিবীর সকল স্নায়ু অস্ত্র থেকে মারণাস্ত্র। সেখানে আপনার নিজের একান্ত সচেতনতাই পারে আপনাকে সুস্থ রাখতে ও বাঁচাতে পারে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে থেকে। আপনি একটু নজর রাখলেই দেখতে পাবেন আপনার গ্রাম থেকে উন্নত- মহা উন্নত, ডিজিটাল শহরগুলোতেও আজ এর সংক্রমণ হচ্ছে।আজ করোনা ভাইরাস আপনাকে আমাকে শিখিয়ে যাচ্ছে আসলে কিভাবে পৃথিবীতে সুশৃঙ্খল ও সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে হয়।করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর প্রায় ৭৫% ছোট বড় ইন্ডাস্ট্রিজ বন্ধ হয়েছে। যা হয়তো ইতোমধ্যে আমাদের লাল/হলুদ বাতি দেখিয়ে বারবার নাড়া দিচ্ছে। আজ আকাশ পথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়েছে। অবৈধ যাতায়ত থেকে শুরু করে চোরা-চালনি আজ স্থগিত রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ৮০% যানবহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়েছে বায়ু দূষণ। যার কারণে পরিবশে উম্মুক্ত নির্মুল ঘ্রাণ নিতে পারছি। বর্তমান পৃথিবীতে ভারী অস্ত্রের মহড়া বন্ধ হয়ে, একটুখানি হলেও প্রশান্তি লাগছে। গোটা পৃথিবীজুড়ে লকডাউন আইনের কারনে মানব সৃষ্ট দূষণ অনেকখানি বন্ধ হয়েছে। হাঁচি, কাশি, ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে দূরে থাকতে সবাই এয়ার কন্ডিশন চালানো বন্ধ রেখেছে বা সচেতনভাবে ব্যবহার করছে।করোনা ভাইরাস থেকে বাচঁতে নিজের শরীর থেকে শুরু করে বাড়ির আশে পাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখছে,পরিবেশের ব্যাপকভাবে উপকার হচ্ছে। যত্রতত্র বিশেষ করে পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে এসেছে।আমাদের চারপাশ সেজেছে নতুন সাজে। মুখরিত পর্যটক ভ্রমর না থাকায় আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ডলফিন দেখা মিলছে, মেলছে তার প্রাকৃতিক ডানা।এতো কিছুর পরিবর্তনের ফলে নাসার দেয়া তথ্যমতে পৃথিবীজুড়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ও কার্বন ওমিশনের মাত্রা ২৫% কমে এসেছে। ফলে প্রকৃতি তার নতুনরূপে সাজতে বসেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা কমে এসেছে। গ্রীনল্যান্ড ও এন্টার্কটিকায় গলে যাওয়া বরফ আবার জমতে শুরু করেছে। যেখানে নিজের ঘরের মানুষকে আটকিয়ে রাখা যায় না। সেখানে ৭০০ কোটি মানুষকে কিভাবে সম্ভব? হয়তো সৃষ্টিকর্তা করোনার উছিলায় ৭০০ কোটি মানুষকে আবদ্ধ করে প্রকৃতি মেরামত করে দিচ্ছেন হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ পৃথিবী কে একটু একটু করে ধ্বংস করে যাচ্ছিলো।করোনায় সৃষ্ট মহামারীতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পরবে বিশ্ব অর্থনীতিতে। কিছু কিছু দেশে দুর্ভিক্ষের নেয় আঘাত হানবে। আমাদের মতো গরীব অসহায় রাষ্ট্র যাতে এর শিকার না হয় তাই আপনার একান্ত সচেতনতা বাড়িয়ে চারপাশে আপনার পরিবার পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের বাঁচাতে আপনিই বাসায় থাকুন, অসুস্থ মানুষজন হোম-কোয়ারেন্টাইনে থাকুন।একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ভাইরোলজিস্ট বলছেন, আমরা এবার করোনা মহামারী এর ৩য় ধাপ এ প্রায় পৌঁছে গিয়েছি। এটি সর্বাধিক আগামী ৬-১০ দিন অতিবাহিত করবে। এ সময় মোট সংক্রমিতদের ৪০-৫০ শতাংশ কোনও লক্ষন ছাড়াই ভাইরাসটি বহন করবে এবং অন্যকে নীরবে-নিভৃতে সংক্রমিত করবে। রোগটি আক্রান্ত হওয়া সবার মাঝেই সাধারন সর্দিকাশি, গলাব্যাথা আর জ্বর সহ উপস্থাপিত হবে। ভাইরাস জনিত রোগটির অস্বাভাবিক বিস্তার / আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে সবার জন্যই সর্বাধিক সাবধানতা অবলম্বনের এটিই চুড়ান্ত আর শেষ সময়।
এর পর আর সাবধানতার কোনও সুযোগ নেই।
এর পর আর সাবধান হয়েও কোনও লাভ নেই।
এর পর আর সাবধান হবার প্রয়োজনও নেই।

অতএব এই মহামারী প্রতিরোধে সচেতনতা ভিন্ন অন্য কোন হাতিয়ার নেই।আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস রাখুন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ গুলোকে স্বাগত জানিয়ে চিকিৎসক, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন।

About নাজ়িম উদ্দিন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

লকডাউনের দুইমাস, নিরবে কাঁদছে মধ্যবিত্তরা

একুশ শতকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগ ভয়াবহ এক এক অদৃশ্যমান বিপদের মধ্যে সারাবিশ্বে দিনাতিপাত …

এই বাংলাদেশ আমার নয়

মানুষ মানুষের জন্যে। এটা শুধু গানের কথা নয়। প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে আমরা এর সাক্ষী। মানুষ জানে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *