সংবাদ শিরোনাম
Home / আন্তর্জাতিক / আজ বিশ্ব বাবা দিবস

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

ভরসা ও পরম নির্ভরতার নাম বাবা। শত দুঃখেও যেন সন্তানের কাছে কোনও প্রত্যাশা না রাখার নামই হয়ত বাবা। বাবা দিবসে শ্রদ্ধা আর ভালবাসা পূর্ণতাপাক সব বাবারা। বাবা শাশ্বত, চির আপন। ভাষা ভেদে হয়তো শব্দ বদলায়, স্থান ভেদে বদলায় উচ্চারণও। কিন্তু বদলায় না রক্তের টান। আমেরিকায় যিনি ‘ড্যাড’ বাংলায় তিনি ‘বাবা-আব্বা’।

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এদেশেও পালন করা হয় দিবসটি।

পায়ে পায়ে হাঁটতে শেখান বাবা। জীবনের নানা টানাপড়েনেও যিনি কখনো, ‘না’ বলেন না। বাবারা তো এমনই হন, বাবাদের তো এমনই হওয়ার কথা। গীতিকার কবীর বকুল ও দিনাত জাহান মুন্নী দম্পতির কন্যা, প্রেরণা প্রতীক্ষারও, একই কথা। লুকানো দুঃখ, ব্যথার মুহূর্তগুলোও যেন চুপ করে যায় বাবার আদরে।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবারা জীবন শক্তির কাছে হার মানলেও, কখনো হারতে চান না এই সম্পর্কের কাছে। তাই প্রথম সন্তান শাহজাদীর গল্প বলতে গিয়ে, ১৩ বছর ধরে প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দা তৈমুর হকের চোখে-মুখে খেলে যায় হাসির ঝিলিক।

নিবাসের আরেক বাবা, সাফিদ হক। বললেন, বাবা দিবসে ভালো খাবারের আয়োজন থাকে ঠিকই। তবে তার যে একটা গোলাপ চাই। কিন্তু সে গোলাপ দেয়ার কেউ নাই। তাই আনমনে নদীর সঙ্গে নিজের জীবন মিলিয়ে সুখী হওয়ার ভান করেন এ পিতা।

আর যারা বাবাকে হারিয়েছেন, তারা হয়তো আকাশের অলক্ষ্যে তাকিয়ে বাবার স্মৃতি হাতড়ান। সেই স্মৃতি হাতড়ে দুঃখ যেন পেতে না হয়, বাবা থাকতেই তাই হোক না বলা- ‘তোমার পাশেই আছি, সব সময়’। দৃঢ় হোক, বাবা-সন্তানের সম্পর্ক। পৃথিবীর সব বাবার জন্য অপার শ্রদ্ধা-ভালবাসা।

কিভাবে এলো বাবা দিবস: ১৯০৯ সালে সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক মার্কিন নারী বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালো বাসতেন। মা ছিলনা তাদের। তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার।

অনেক চেষ্টা চরিত্র করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটি গুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথম বারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস।

শুরুটা ওয়াশিংটনে হলেও ধীরে ধীরে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আস্তে আস্তে মা দিবসের পাশাপাশি বাবা দিবসের প্রতিও সচেতন হতে থাকেন সন্তানরা। দীর্ঘ ছয় দশক পর মিলে বাবা দিবসের স্বীকৃতি। ১৯৭২ সালে তখনকার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন একটি আইনে স্বাক্ষর করে বাবা দিবসকে জাতীয় মর্যাদা দেন।

তবে এর মাঝে বেশ কিছু আন্দোলনও হয়ে গেছে মা দিবস এবং বাবা দিবস একসাথে করে প্যারেন্ট ডে পালনের জন্য। তবে বেশিরভাগ মানুষ আলাদা আলাদা দিন পালনেই রত থাকলো। অবশ্য কেউ কেউ এটিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ধান্ধা বলতেও কার্পণ্য করেনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালন করা হয়। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাবা দিবস হচ্ছে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি পালিত হয় ১৯ এ মার্চ। অস্ট্রেলিয়া ও ফিজিতে পালন করা হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রবিবার।

About নাঈম সজল

এ সম্পর্কিত আরো খবর

আনন্দবাজারে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালো বিজিবি

ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজারে ‘অরক্ষিত জমিতে পা পড়ছে বাংলাদেশির’ শিরোনামে গত ৭ই জুলাই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ …

এক মুখোশধারী ‘হঠাৎ বুদ্ধিজীবী’ পেশাদার প্রতারকের গল্প

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া রিজেন্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *