সংবাদ শিরোনাম
Home / অপরাধ / দেশে করোনা পরীক্ষার নামে পুকুর চুরি!

দেশে করোনা পরীক্ষার নামে পুকুর চুরি!

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনার নমুনা সংগ্রহে বুথ স্থাপনের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ারকে দায়িত্ব দেয় সরকার। এজন্য প্রয়োজনীয় সবই সরবরাহ করা হতো সরকারিভাবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এ সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নিচ্ছিল বিশাল অঙ্কের টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পায় পুলিশ। পরে প্রতিষ্ঠানটির এমডিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে আটক করা হয় প্রতিষ্ঠানটির চাকরিচ্যুত দম্পতি হুমায়ুন কবির ও তানজিনা পাটওয়ারীকে। উদ্ধার করা হয় ৩৬টি ভুয়া কোভিড সার্টিফিকেট। যে কম্পিউটারে জাল সার্টিফিকেট বানানো হতো সেটি এবং বেশকিছু সুরক্ষাসামগ্রী। পরে হুমায়ুনের দেখানো পথে জেকেজির বাড্ডা অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ।

ওখানে প্রথমে পাওয়া যায় এনজিওপ্রধান ও কোভিড প্রকল্পের ম্যানেজারকে। পরে তাদের নিয়ে ভবনের অন্য জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অনেকগুলো ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। একটি রুমে কয়েকটি কার্টনে পাওয়া যায় ৩ হাজার কভিড পরীক্ষার কিট। মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগে মেলে অবৈধ মাদক ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম। এ সময় জেকেজির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এমডি) আরিফ বিষয়গুলো স্বীকার করে বলেন, যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অবৈধ কাজ করেছে, ইতোমধ্যে তাদের চাকরিচ্যুত করেছি। তবে তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি।

জানা যায়, সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাসায় গিয়ে অবৈধভাবে নমুনা সংগ্রহ করত, যার কোনো অনুমতি ছিল না। আবার বাসা থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ফলাফল দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম মানত না। এ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তিনি জানান, গত ৪ জুন থেকে আমি প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। ফলে আমি বিষয়টি জানি না।

সূত্র আরও জানায়, বিনামূল্যে বিভিন্ন বুথ থেকে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাসায় গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করে প্রায় প্রতিদিনই অনৈতিকভাবে টাকা আয় করত। প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা আয়েরও তথ্যও পাওয়া গেছে।

গত এপ্রিলে দেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য অনুমতি পায় জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা বা জেকেজি হেলথকেয়ার। নমুনা পরীক্ষায় টেকনোলজিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণের জন্য তাদের রাজধানীর তিতুমীর কলেজে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জায়গা করে দেওয়া হয়। ১২ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জেকেজির প্রস্তুতি দেখতে যান তিতুমীর কলেজে।

ওই সময় জেকেজি হেলথকেয়ারের স্টাফ প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের প্রধান সাঈদ চৌধুরী বলেন, দেশের আটটি বিভাগে মোট ৩২০টি নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৪টি নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করবে তারা। কিন্তু ১৫ জুন পর্যন্ত তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে মাত্র সাতটি স্থানে বুথ স্থাপনের কথা। বাস্তবে তাদের তেমন কোনো বুথ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেকেজি হেলথকেয়ার করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য যেসব নমুনা সংগ্রহ করে, সেগুলো সরকারি একটি ল্যাবে পরীক্ষা করানো হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনার কারণে ল্যাব থেকে কোনো খরচ নেওয়া হয় না। জেকেজির বুথগুলোতে যারা কাজ করেন, তাদের সুরক্ষাসামগ্রীও দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেই।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, টাকা নিয়ে নমুনা পরীক্ষা করানোই নয়, বরং এ নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ল্যাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বচসা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে থাকা সাতটি বুথ থেকে যে পরিমাণ নমুনা দেওয়ার কথা, তার বেশিই দেওয়া হয়ে থাকে ল্যাবে। প্রথমদিকে এ প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করা হতো রাজধানীর একটি ল্যাবে। সেখান থেকে জেকেজি হেলথকেয়ারের বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ার পর আরেকটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ল্যাবে তাদের স্থাপিত বুথ থেকে দৈনিক ২০০টি নমুনা পরীক্ষা করানোর জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়।

কিন্তু তারা প্রায় প্রতিদিনই ২০০-এর অধিক নমুনা পরীক্ষা করাত। যা সংগ্রহ করত বিভিন্নভাবে প্রতারণার মাধ্যমে রোগীদের বাসায় গিয়ে। এক্ষেত্রে তারা জনপ্রতি নমুনা পরীক্ষার জন্য নিত ৫ হাজার টাকা করে। একদিন তারা নমুনা জমা দেয় ৭৯১টি। যার মূল্য হিসেবে তারা নিয়েছে ২৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। একটি ল্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, যদি দিনে ১০০টা নমুনা বাসা থেকে সংগ্রহ করে ৫০০০ টাকা নেয়, তবে তার ইনকাম হয় ৫ লাখ টাকা। অথচ তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই নিয়ে থাকে। এমনকি তাদের নমুনাও পরীক্ষা করানো হয়ে থাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা আরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে। ১ হাজার নমুনা জমা দেওয়ার অভিযোগও আমরা পেয়েছি। তাদের এ বিষয়ে নিষেধ করার পরও তারা এ কাজ চালিয়ে যায়।

এসব বিষয় নিয়ে ল্যাবসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, জেকেজি হেলথকেয়ারের নমুনা পরীক্ষাসহ তাদের জন্য পিপিই বিতরণের পক্ষে সুপারিশ রয়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের।

সার্বিক স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদেরকে একটা নির্দিষ্টসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাসায় গিয়ে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি যেহেতু তাদের নেই সেটাও তাদের বন্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র; খোলা কাগজ

About সময় এক্সপ্রেস নিউজ ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরো খবর

পরীক্ষা না করেই করোনার রিপোর্ট দিচ্ছে নিউ শেভরন!

চট্টগ্রামে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ‍উঠেছে নিউ শেভরন …

ঈদে গণপরিবহন নয় বন্ধ থাকবে পন্যপরিবহণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে পাঁচ দিন এবং ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *