সংবাদ শিরোনাম
Home / জাতীয় / প্রায় এক মাসেও ঢাকার ৪৫ রেডজোন লকডাউন ঘোষণা করতে পারেনি

প্রায় এক মাসেও ঢাকার ৪৫ রেডজোন লকডাউন ঘোষণা করতে পারেনি

করোনার বিস্তার রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে রেড জোন ঘোষণা করে লক ডাউনের আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেই। করোনা সংক্রমণে দেশে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চল হলো ঢাকা মহানগর। ১৮ দিন আগে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন করার পর নগরীর আর কোনো এলাকাকে এর আওতায় আনা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকার ওয়ারী এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তারা চিঠি পাঠিয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে রেড জোন চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার পরিকল্পনা ঘোষণার শুরুতেই ঢাকা মহানগরীতে ৪৫টি এলাকাকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই ঘোষণার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও এখন লকডাউন ঘোষণা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর রশি-টানাটানি এবং একে-অপরকে দায়ী করার মধ্যেই লকডাউন বাস্তবায়ন ঝুলে আছে।

শনিবার (২৮) জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই তালিকা চূড়ান্ত নয়। রেড জোনে শিল্প কারাখানা, বড় বড় প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার কথাও বলছেন তিনি। এখন যা জানা যাচ্ছে, পুরো বিষয়টি নিয়েই নানা রকম চিন্তা চলছে। তালিকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রেড জোনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হালনাগাদ করা হচ্ছে রেড জোনের তালিকা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম শনিবার সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। কবে চূড়ান্ত হতে পারে লকডাউনের তালিকা? তা নিশ্চিত করতে পারছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্য। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে দেশে ৩ হাজার ৫০৪ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর এ নিয়ে দেশে মোট করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ আর এই ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জন মারা গেছেন। এই নিয়ে মোট ১ হাজার ৬৯৫ জনের মৃত্যু হলো করোনায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ঢাকা মহানগরের ওয়ারির নির্ধারিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে রেড জোন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরামর্শক কমিটির গাইডলাইন অনুযায়ী পূর্ব রাজাবাজারে রেড জোন চলমান আছে। স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যেখানে প্রয়োজন রেড জোন বাস্তবায়নের কাজ চলমান আছে। জোনিং নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে ১৩ সদস্যের একটি দল কাজ করে যাচ্ছে।

মহামারী চলাকালীন জরুরী পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা রোধে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরগতিকে দুভাগ্যজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।

About নাঈম সজল

এ সম্পর্কিত আরো খবর

ঈদে গণপরিবহন নয় বন্ধ থাকবে পন্যপরিবহণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে পাঁচ দিন এবং ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত …

গোঁফ কেটে-চুলের রঙ পরিবর্তন করে বোরকা পরে পাগলের ছদ্মবেশ নেন শাহেদ

করোনার নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা আর জালিয়াতির মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ ওরফে শাহেদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *