সংবাদ শিরোনাম
Home / অপরাধ / রোহিঙ্গা ইস্যুতে পার পেয়ে গেল মিয়ানমার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পার পেয়ে গেল মিয়ানমার

চীনের বাধায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজে’র সুনর্দিষ্ট আদেশের পরও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার গণহত্যার মামলায় আইসিজের অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের আদেশ নিয়ে মঙ্গলবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। তারা চেয়েছিল রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা বন্ধে মিয়ানমার যেন সবধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেজন্য যৌথ বিবৃতি দিতে। কিন্তু মিয়ানমারের মিত্র চীনের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। এতে বিরোধিতা করেছে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ভিয়েতনামও।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যারা দায়ী তাদের বিচারের আওতায় এনে ‘বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ’ নেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইইউ বলেছে, রাখাইনের পাশাপাশি কাচিন, শান রাজ্যের সংঘাতের মূল কারণ উদঘান করে এর অবশ্যই সমাধান করতে হবে মিয়ানমারকে। মানবাধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এ প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে নিধনযজ্ঞ চালানোর পর প্রাণে বাঁচতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী জাতিগত নিধনের অভিপ্রায়ে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের ধর্ষণ, হত্যা, বাড়ি-ঘরে জ্বালাও পোড়াওয়ের অভিযোগ উঠলেও দেশটির সেনাবাহিনী তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। মামলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত আরও তীব্রতর না হওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি।

আইসিজে তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গারা গণহত্যার হুমকির মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রাখাইনে সম্ভাব্য গণহত্যার যে আলামত পেয়েছে, তা পর্যালোচনা করে আইসিজে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী আদেশে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বের সুরক্ষা নিশ্চিতে কোনো প্রস্তাব দেয়নি মিয়ানমার। তাদের অবশ্যই জেনোসাইড কনভেনশন মেনে চলতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, সংঘাত কবলিত রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতে মিয়ানমারের আরও সময় প্রয়োজন। মিয়ানমারের বিচার ব্যবস্থাকে নিজস্ব গতিতে পরিচালিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিলেই কেবল রাখাইনের অপরাধের ন্যায় বিচার নিশ্চিত সম্ভব।

মঙ্গলবার ইইউ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণভাবে এবং টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।

About সময় এক্সপ্রেস নিউজ ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরো খবর

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের নামে শিক্ষা কর্মকর্তার ভয়াবহ প্রতারণা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে চাকরি করেন মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এই চাকরির আড়ালে …

শত কোটি টাকার সম্পদ, স্বাস্থ্যের সেই ডিজির ড্রাইভার যেনো ডাকাত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণীর সাধারণ কর্মচারী হয়েও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *